অনেক দিন পর! বলত কতদিন পর? কি বলতে পারলে না তো! আমি বলছি- ঠিক তিন মাস বাইশ দিন পর। তুমি কেমন আছো সেটা তো তুমি খুব ভাল করেই জানো। আমি কেমন আছি সেটা জানো?জানলে কতটুকু জানো? আসলে এই জানাজানি করতে করতেই তো সব শেষ হল। জীবন গেল, যৌবন গেল। বাকি ছিল আশা- সেটাও যেতে বসেছে। এত কোলাহলের মাঝে আমার সব হারিয়ে যাচ্ছে। আমার সুখ, আমার শান্তি, আমার স্বপ্ন, আমার ভালোবাসা- যেতে যেতে না কোন দিন নিজেই হারিয়ে যাই! অথচ এই এতদিন তোমার পত্রের অপেক্ষা করে করে শেষ পর্যন্ত নিজেই……আজকের দিনে অন্তত একটি পত্র চেয়েছিলাম…একটা নিষ্পাপ আকাঙ্খা।
দেখো তো কি কান্ড! লিখব একটা ভালোবাসার পত্র, লিখলে বসলাম করুন কথা। কি যে হয় ঠিক বুঝি না। সারাক্ষন মনের মাঝে কেমন একটা না পাওয়া এত গভীর ভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছে যে, যা লিখতে যাই শেষমেশ সেটা বিরহ কাব্য ই হয়ে যায়। সেই কুমিরের গল্পের মত-
এবার বলো কেমন আছো? আমি যে কেমন আছি সেটা আমি আসলে বুঝতে পারছি না, এই একটা প্রশ্নের উত্তর আমি সারা জীবন খুজেও পেলাম না।এই দেখো- তোমার ভালোমন্দের খবর নিতে গিয়ে আবার নিজের কথা বলতে বসলাম। ঐ যে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বাধে-তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের সুখ খুজে নিতে গিয়ে তোমাকে বারবার যন্ত্রণায় ফেলে দিয়েছি।
এখন বলতো আমাদের দুজনের মধ্যে কে বেশী ভাগ্যবান।! বলতে পারবে? আমি জানি তুমি বলবে আমার কথা। এবং সেটা শতভাগ সত্যি। কারন কি জানো! কারন হল আমি সারাক্ষন শুধু তোমাকে নিয়েই ভাবি। দিন রাত সব সময়।
ভাবতে ভাবতেই সকাল আবার ভাবতে ভাবতেই রাত। সারাক্ষন তুমি। ভালবাসায় ও তুমি, আনন্দে ও তুমি, আবেগেও তুমি, রাগেও তুমি, ঘৃণাতেও তুমি।
মনে নেওয়া আর মেনে নেওয়া এই দুটো ব্যাপার তো তোমাকে বহুবার বলেছি। এখন আমার জীবনে যা কিছু ঘটছে তা আমি মেনে নিচ্ছি। কোন কিছুই এর মন থেকে নিচ্ছি না। তোমার থেকে দূরে থাকার কষ্টতে আমি অভ্যস্ত। বছরের পর বছর আমি তোমার থেকে দূরে থেকেছি। হয়ত বাকি জীবন ও এভাবেই কাটাতে হবে আমার।
একটা কথা কি তুমি বিশ্বাস কর! তোমাকে দেখার পর থেকে কি সত্যি সত্যি আমি তোমার থেকে কখন দূরে থেকেছি! হ্যা এটা সত্যি তোমাকে স্পর্শ করিনি, তোমার হাতে হাত রেখে হাটা হয় নি কক্ষনো।কিন্তু তোমাকে ছেড়ে থাকিনি কখনো তোমাকে দেখার পর থেকে।
“কেমন আছো তুমি?” এই কথাটা তোমাকে কতবার জিজ্ঞাসা করেছি তুমি বলতে পারবে? আমি পারব না। যখন আর কোন কথা খুজে না পাই তখন এই কথা টা জিজ্ঞেস করি। আর একটা কথা বলি যখন অন্য কিছু বলার থাকে না। বলত সেটা কি?”আমি তোমাকে ভালবাসি” এই কথা টা…… হা হা হা।
ভালোবাসা শব্দটির মাহত্ব বুঝতে বুঝতেই তো এতগুলো বছর কেটে গেল। তবু কি বুঝতে পারলাম এই ভালোবাসা ব্যাপারটা কি?আমি পারিনি। তুমি পেরেছো কি! আসলে কেউ কি পারে? সবাই তো ভালোবাসি ভালোবাসি বলেই জীবন শেষ করে দেয়।
তোমার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় পরিচয়টা কিন্তু অদ্ভুত। তুমি তো বলো ওটা তোমার তোমার দ্বিতীয় জন্ম। তোমার কাছে ঐ কথা টা প্রমান করার কোন ব্যাখ্যা আছে? আমি কিছু ব্যাখ্যা দেই তোমাকে- আমার জন্মদিন ছিল রবিবার আর তোমার সাথে নতুন করে শুরুর দিন ও রবিবার। আমি সব সময় পূর্ণিমা খুব পছন্দ করি। নতুন শুরুর রাতটি ছিল পূর্ণিমা। তাহলে বলো তো দ্বিতীয় জন্মটা কার হল…যদিও যুক্তি গুলো খুবই দুর্বল, তারপরও কিছু যুক্তি আছে আমার কাছে। হা হা হা।
সারাক্ষন একা থাকার কি যে যন্ত্রণা রোজ!, সেটা যদি তুমি জানতে! বুকের মধ্যে এমন যেন একটা হতাশা- মনে হতে থাকে কেউ একজন এক গ্লাস পানি এনে দিত, হঠাৎ করে এসে বুকের মধ্যে মধ্যে ঝাপিয়ে পরে চট করে ‘তোমাকে ভালোবাসি’ বলে আবার দৌড়ে পালাতো! হা হা হা! কি সব এলোমেলো ভাবনা। সারাজীবন শুধু ভেবেই গেলাম। এ জীবনে আর পাওয়া হবে কিনা কে জানে!
আমার প্রিয় ফুল গাছের ডালে ডালে এখন কত ফুল ফুটে আছে আর ওখানে তুমি কাপড়ের ফুল পরে নিজের কষ্ট জুড়াচ্ছো। কি এক ভাগ্য নিয়ে বিধাতা আমাদের পাঠালেন এই পৃথিবীতে।প্রায়ই গাছ থেকে ফুল গুলো দু-একটা করে ঝড়ে পড়ছে। যখন ফুল গুলো তুলে নিচ্ছি তখন ভাবছি এটা তোমার চুলে গুজে দিলে তুমি ঠিক কি বলতে। সুপার ঢং দেখাতে নাকি কপট একটা রাগ দেখাতে নাকি সত্যি রাগ হতে।
একটা সময় ছিল যখন মিনিটের হিসেব করতাম। তারপর এলো ঘণ্টার হিসেব, এরপর এখন দিনের হিসেব। তারপর একসময় মাস তারপর বছর…আবার আগের মত……..তার মানে কি আবার সেই আগের জীবন? আবার আগের নিয়ম…? হয়ত, অথবা হয়তবা না!
জীবনে যারা অনেক বেশী আশা করে তারা অনেক দু;খি হয়। ধরো আমার কথা- কত কিছু চেয়েছিলাম। আমার মত করে আমার সঙ্গী কে সাজাবো, আমার রঙে, আমার স্বপ্নের মত করে। সাজানো তো দুরের কথা! সঙ্গীই জুটলো না কপালে। আর তাকে নিজের মত করে সাজানো! সে তুমি যা ই বল আমি আমার এই অবস্থান নিয়ে কিন্তু খুশী। যা চেয়েছি তাই পেতে হবে। ঠিক তেমন করে যেমন টি আমি স্বপ্ন দেখি।
আমরা কতটা স্বার্থপর তার একটা উদাহরণ দেই- আমি একটা মানুষ যার একটাই স্বপ্ন- আচ্ছা থাক এটাকে স্বপ্ন বলা বোধ হয় ঠিক হবে না। স্বপ্ন না বলে এটাকে জিদই বলি। “তোমাকে আমার মত হতে হবে। আমার মত করে সাজতে হবে, আমার মত করে পরতে হবে, আমার মত করে থাকতে হবে”- কতটা ভয়ানক স্বার্থপর আমি দেখছো?
নিজেকে খুব বেশী অসহায় লাগে ইদানিং। এতটাই যে নিজের অস্তিত্ব ভুলতে বসেছি। অস্তিত্ব ভুলে যাওয়ার অর্থ বোঝো? এখন আমার নিজের অস্তিত্ব বলে কিছু নেই। আমি এখন বেচে থাকার জন্য বেচে আছি আর বেচে আছি যদি আমার তুমি আমার কাছে কোন দিন আসে সেই আশায়, যদি কোনদিন “আমার তুমি” তার সব বাধা, সব সামাজিকতা আর তার সমস্ত আস্থাহীনতাকে উপেক্ষা করে আসে আমার কাছে।
অপেক্ষার প্রহরগুলো অনেক বেশী যন্ত্রনার জানো কি? আর সেই অপেক্ষা যদি হয় আজন্মের এবং আমৃত্যু, সেটা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা আমি মর্মে মর্মে অনুধাবন করছি। এক একটা দিন আমার কাছে শত সহস্র বছরের থেকেও অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছে আর এক একটা রাত অনন্ত কালিমার প্রলেপ জড়িয়ে দিচ্ছে আমার জীবনে।
আমি তোমাকে ভালোবাসি!
