তন্ত্রোক্ত স্মৃতি

দিন নয়, আমাকে দাও শেষ রাত।
যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ হয় ফিসফিসে,
আর দেবতারা শুনে নীরবে।
প্রেমিকা আমি,
কিন্তু সংসারের ভাষায় নয়।
আমি তোমাকে চাই
অঘোরের চোখে তাকিয়ে।
তুমি শিব
কালো, স্থির, অচঞ্চল।
গলায় বিষ, বুকে মহাশূন্য।
আমি পার্বতী
আমার শরীর মন্ত্রের পাত্র,
রক্তে রক্তে বয়ে চলে তন্ত্রোক্ত স্মৃতি।
শিবসূত্র বলে, চৈতন্যই সর্ব।
তাই তোমার স্পর্শে আমার দেহ নয়,
আমার চেতনা কাঁপে।
আমি তোমার বাম, যেখানে শক্তি উথলে ওঠে।
তুমি আমার ডান যেখানে লয় ঘটে।
শ্মশানে বসে, আমি তোমার নাম জপি।
আগুন, ভস্ম, হাড় সবই পবিত্র,
যখন শিব সামনে থাকেন।
আমার প্রেমে লজ্জা নেই।
কারণ তন্ত্রে লজ্জা অজ্ঞান।
আমি তোমাকে চাই বিবাহে নয়, দীক্ষায়।
তুমি আমাকে নাও
স্ত্রী হিসেবে নয়, শক্তি হিসেবে।
শেষ রাতে যখন সমস্ত দেবতা নীরব,
তখন তুমি বলো, “তুমি আমার শক্তি।”
আর আমি লীন হই
পার্বতী নয়, প্রকৃতি নয়, শুধু শক্তি।