প্রিয়, বাম অলিন্দ..

প্রিয়,
বাম অলিন্দ..
আপনার কাছে আজ কিছু কথা লিখতে বসলাম। যদিও কথাগুলো আপনার পাশে বসেই বলতে পারতাম কিন্তু সত্যি হলো আপনার চোখে তাকিয়ে অনেক কথা বলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই কাগজ কলমের সাহায্য নিলাম। কেবলমাত্র কৈশোর শেষ করে প্রথম কদমের একধাপ সামনে এগোতেই দ্বিতীয় কদমের ধাপ রেখে আপনার বাড়িতে আসা। দেখতে অনেক সুন্দরী ছিলাম আপনার ভাষায়। অল্প বয়সের কারণে মুখের চামড়া টনটনে ছিল। আমার চুলের গোছা দেখে আপনি অবাক হতেন। অনেক ঘন কথা বলতাম, আপনি কখনো বিরক্ত না হয়ে গভীর মনোযোগে আমার কথাগুলো শুনতেন। চঞ্চলতা যেন সারাক্ষণ লেগে থাকতো। ঘুরতে যাবার কথা বললেই সব কাজ ফেলে সেজেগুজে তৈরি হয়ে বেড়িয়ে পড়তাম। আমাকে আইসক্রিম কিনে দিতে আপনাকে বলতে হতো না, আপনি জানতেন আইসক্রিম আমার অনেক প্রিয়। মেলায় নিয়ে গেলে আপনার মাথা খারাপ করা ছিল আমার প্রধান কাজ। এটা কিনে দেন, ওটা কিনে দেন আবদারের শেষ ছিল না। আপনিও চেষ্টা করতেন সবসময় আমাকে খুশি রাখার। কোন কিছুর জন্য জেদ করলে আপনি পূরণ করতেন। রাগ করতেন কিনা বুঝতাম না কারণ আপনাকে সবসময় হাসিমুখেই দেখেছি। যদিও জেদ করতাম তবুও আপনার পকেটের কন্ডিশন বোঝার চেষ্টা করতাম। আমার উচ্চস্বরে হাসার কারণে আপনার একটু বকা খেতাম তবুও কানে নিতাম না। আমার মতো হাসতাম, ঘুরতাম, গলা ফাটিয়ে গান গাইতাম।
আর এখন,
এখন বয়স হয়েছে। নানান রোগে বাসা বেঁধেছে। মুখের চামড়ায় বয়সের ছাপ পড়েছে। চোখের নিচে কালি স্পষ্ট বোঝা যায়। চুলগুলো সব পাক ধরেছে। অনেক কথা মনে থাকে না। কখন কি বলেন ভুলে বসি। চা বানিয়ে দিতে বললে চিনি দিতে ভুলে যাই। তরকারিতে লবন না হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। লেখালেখি করতে বসলে আপনার ডাক কানে আসে না। আপনার টাইটা বাঁধতে গেলে আজকাল ছোট বড় করে ফেলি। আপনার কাজের জিনিসপত্র ঠিক জায়গায় রাখতে ভুলে যাই। আপনি হয়তো রাগ হন কিন্তু আমাকে কখনো বুঝতে দেননি। আপনার সাথে হাটতে বের হলে কদম মিলিয়ে হাঁটতে পারি না। বোঝেনই তো, হাঁটু ব্যথা দিন দিন বেড়েই চলছে।
আপনি একটু মানিয়ে নিয়েন। কথা দিচ্ছি বৃদ্ধ বয়সে আপনার চশমাটা এগিয়ে দিবো, আপনার হাতের লাঠি কোথায় রেখেছি মনে করে কাছে এনে দিবো। আপনার প্লেটের মাছের কাটা বেছে দিবো। আপনার সাথে ব্যালকনিতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করবো। ভোরের কুয়াশা ভেজা দূর্বা ঘাসে খালি পায়ে আপনার হাত ধরে হাটবো। পূর্নিমার রাতে আকাশের নিচে বসে আপনাকে গান শোনাবো। সব শেষে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আপনাকেই ভালোবাসবো।
ইতি,
আপনার অর্ধাঙ্গিনী