রাতের জানালায় এক জোড়া মখমল ডানা,
অন্ধকার থেকে উঠে আসা— নাম তার অজানা।
চাঁদের আলোয় যেন এক ফালি কালো নিশ্বাস,
বয়ে আনে কারো একাকীত্বের দীর্ঘ ফ্যাকাশে আশ্বাস।
সে যখন এসে বসে জং ধরা জানালার গ্রিলে,
বাতাস থমকে যায়— সব শব্দ যায় মিলে।
পর্দাটা কেঁপে ওঠে অকারণে, হাওয়া নেই তবু—
সে কি কোনো পুরনো বার্তাবাহক? নাকি চেনা প্রভু?
কাঁচের ওপাশে এক স্থির শীতল ছায়া ভাসে,
অশরীরী কেউ যেন তার ডানার আড়ালে হাসে।
মৃতদের নামগুলো সে কি ডানা ঝাপটে ছড়িয়ে দেয়?
নাকি কারো আয়ুর হিসাব অতি সন্তর্পণে নেয়?
বাতি নিভে গেলে ঘরময় এক অদ্ভুত স্তব্ধতা,
দরজায় টোকা পড়ে, যেন কোনো অকথিত কথা।
কেউ নেই বাইরে, অথচ দরজায় শব্দের ভার,
সে এক ম্লান প্রহরী, খুলে দেয় ওপারের দ্বার।
সে যেখানে স্থবির হয়ে বসে থাকে দেয়ালের কোণে,
মৃত্যুও সেখানে থমকে দাঁড়ায় নিঃশব্দ চরণে।
শেষ রাতে যখন সে উড়ে যায় ছায়ার মিছিলে,
রেখে যায় হাহাকার, ঘর ভরা নিঝুম মিছিলে।
সকালে জেগে কেউ দেখে শূন্য বিছানাটি পাশে,
বালিশটা হিমশীতল— যেন কেউ ছিল না এ আবাসে।
উধাও হয়েছে সেই পতঙ্গ, রেখে গেছে কালো দাগ,
পৌষের ভোরেও মেটেনি যেন তার অন্ধ সোহাগ।
