রাত গভীর,
চাঁদটা যেন ধ্যানমগ্ন দরবেশ
নীরবতার টুপি মাথায়, আলো তার দোয়ারে বসে জপছে নাম।
আমি বসে আছি প্রার্থনার মতো এক টেবিলে,
জ্বলন্ত সিগারেটের ধোঁয়া উঠে যায় সোজা আকাশের দিকে
যেন নিঃশব্দ দোয়া।
হঠাৎ সে আসে
মৃত্যু নয়, যেন আমারই রুহের প্রতিচ্ছবি।
চোখে তার করুণা, ঠোঁটে নিস্তব্ধতার জিকির।
আমি বুঝি, এই আগমন ভয় নয়
এ এক ডাক, “লওতানি”— ফিরে এসো, প্রিয় আত্মা।
আমরা কথা বলি সারা রাত
না শেষের, না শুরু’র
শুধু মাঝের বিসর্জনের সেই মুহূর্তের,
যেখানে জীবন নামের ঘুম
ধীরে ধীরে খুলে যায় অনন্তের দরজায়।
হঠাৎ জীবন উঁকি দেয়
অহংকারে মোড়া কণ্ঠে বলে,
“মৃত্যু নিয়ে এত ভাবনা কেন?”
আমি হেসে উত্তর দিই,
“তুমি তো মায়া,
ছায়ার মতো বদলে যাও রোদের সাথে।
আর ও যে— ও-ই তো আসল,
যার পথে মিশে যায় সব আলাদা নাম।”
মৃত্যু তখন বলে না কিছু,
শুধু এক নিঃশব্দ ফানার হাসি।
আমি চোখ বন্ধ করি
বাতাস থেমে যায়,
চাঁদের আলো নামাজে দাঁড়ায়,
আর আমি অনুভব করি
আমি নেই,
শুধু ‘ও’ আছো,
আর আমরা ‘এক’।
