নীলখাম চিঠি

আজ এই নিশি জাগা শুভ্র প্রভাতে,রবির উজ্জ্বল কিরণে পৃথিবী এক নতুন দিনের সূচনায়
স্নিগ্ধ আলোয় সেজে উঠলো যখন; এমনি একটা আলোকময় দিনের সূচিত হওয়া প্রহরে,
তোমার উদ্যেশ্যে একটি প্রেমপত্র লিখতে বসে গেলাম।
এই হৃদয় বাগানের না ফোটা কথা-কলিরা ফুল হয়ে ফোটার আকুলতা জানায় নিশিদিন;
কখনো বলা হয়ে উঠেনা সে-সব। আবেগী গল্পরা অপ্রকাশিতই রয়ে যায় হৃদয় গহীনে।
আমি আজ লিখবো তোমাকে, অন্য রকম একটা চিঠি।
চিরা-চরিত ভাষায় প্রেমপত্র নয়, শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে লিখবো, শব্দ-বর্ণহীন ভালোবাসার কথা।
জানি না তোমার শহরে এখনো ডাকপিয়ন যায় কি না..!
না; আমি কোন ডাকযোগে পাঠাবো না আমার এই চিঠিটা। ছদ্ম বেশে, নীল খাম বন্দী চিঠির বাহক হয়ে,
আমিই একদিন পৌঁছে যাবো তোমার শহরে। এক ঘর্মাক্ত দুপুরে তোমার বাড়ির ডাকবাক্সে আমিই
পোস্ট করবো নীলখামের চিঠিটা।
অতঃপর; এক রোদেলা সকাল,ক্লান্ত দুপুর আর উদাসী বিকেল, তোমার বাড়ির সামনে টং দোকানে বসে
অপেক্ষা করবো। কখন এলোচুলে দরজা খুলে হরিণীর মতো রাঙা চরণ ফেলে, হেঁটে যাবে আমার সামনে দিয়ে;
ভালবাসায় পূর্ণ নীলখাম হাতে!
বেশি কিছু চাওয়া নেই, চিঠির উত্তরে কেবল চাইবো; খামবন্দী থাকবে তোমার মিষ্টি হাসি, চোখের কাজল,
চুলের ঘ্রাণ আর তোমার হৃদয় ভরা মায়া।
ঐ চিঠির উত্তরে লেখা থাকবে আমাদের আজন্ম সঞ্চিত ভালোবাসা, আবেগ অনুভূতি আর সোহাগী স্বপ্নদের কথা।
স্বার্থক হবে নীল খামের চিঠি,
প্রেম প্রীতি আর কথা মালারা।
হে প্রিয় আমার;
তবে ভালোবাসাই হোক আমাদের আগামী’র ঠিকানা….।